৭ আগস্ট,২০২১(বিবিনিউজ ): সাভারে বাংলাদেশ প্রাণি সম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএলআরআই) গবেষণার মাধ্যমে তিতির মুরগি পালন শুরু হয়েছে। গবেষণার মাধ্যমে লালন পালন শেষে বংশ বিস্তারের জন্য সারা দেশে প্রান্তিক খামারিদের মাঝে এগুলো বিতরণ করা হবে। এখন উদ্যোক্তাদের মধ্যে তিতির পালনকে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে বিএলআরআই। ইতোমধ্যে তিতির পালনের জন্য খামারিরাও উৎসাহিত হচ্ছেন।
জানা যায়, প্রায় সাতশ বছর আগে বন-জঙ্গল থেকে গৃহপালিত পাখি হিসেবে পালিত হতে শুরু করে তিতির। আফ্রিকার এই পাখিটি ইংরেজদের হাত ধরে ইউরোপ থেকে ব্রিটিশ উপনিবেশ হয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় আসে। বাংলাদেশে এরা প্রায় বিপন্ন হিসেবে বিবেচিত।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রাণি সম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) তিতির গবেষক সাজেদুল ইসলাম জানান, দেশি মুরগির মতোই এদের লালন-পালন করা যায়। তিতিরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যান্য মুরগির তুলনায় বেশি। সংক্রমণ বা পরজীবী সহজে আক্রান্ত করতে পারে না। আলাদা কোনো ভ্যাকসিন বা ওষুধ দেওয়ারও প্রয়োজন হয় না। এমনকি এদের সম্পূরক খাদ্যের চাহিদাও কম। প্রতিকূল পরিবেশে এরা নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দেশে তিতির মুরগি পালন প্রায় বিলুপ্তির পথে। এদের বংশ বিস্তারের লক্ষে সারা দেশ থেকে তিতির সংরক্ষণ করে গবেষণার মাধ্যমে কয়েক বছর আগে পালন শুরু করা হয়। এখানে চারটি জাতের তিতির পালন করা হচ্ছে। জাত গুলো হলো- পার্ল, মিক্সড, হোয়াইট ও ল্যাভেন্ডার। তিতিরের মাংস অনেক সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। মূলত এটি চায়না জাতের মুরগি। দেশি মুরগি যেখানে ৬ মাসে সর্বোচ্চ ১ কেজি ওজনের হয়, সেখানে তিতির মুরগি দেড় কেজি বা তার বেশিও হয়ে থাকে। আবার একটি দেশি মুরগি বছরে ৫০-৬০টি ডিম দেয়, একটি তিতির মুরগি বছরে প্রায় ১০০-১২০টি ডিম দিয়ে থাকে।
এদের ডিমগুলো অনেক শক্ত হওয়ায় দীর্ঘদিন সংরক্ষণে রেখে দেওয়া যায়। তিতির অত্যধিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। তিতির দেখতে অনেকটা মুরগির মতো হলেও এটি আসলে পাখি। তবে গ্রামাঞ্চলে একে চায়না বা চীনা মুরগি বলা হয়। এছাড়া এর বাজার মূল্য দেশি হাঁস-মুরগির চেয়ে অনেক বেশি। তাই এটি লালন-পালন করা দেশি মুরগির চেয়ে অধিক লাভজনক। তিতির পালন দারিদ্র্য বিমোচনে যেমন সহায়ক, তেমনি বিপন্ন প্রায় এ প্রজাতির সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিতির গবেষক সাজেদুল ইসলাম
